কুড়িয়ানার পেয়ারাবাগান হতে পারে পর্যটনকেন্দ্র

আহমেদ শাহেদ : পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্বরূপকাঠির আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারাবাগান। সরু সরু খালের দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন সারি সারি পেয়ারবাগান দেখে পর্যটকদের মন জুড়িয়ে যায়। পেয়ারা মৌসুম শুরুতেই পেয়ারাবাগানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দেশি নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা চড়ে ঘুরে বেড়ান দূর-দূরান্ত থেকে আসা তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের প্রকৃতি প্রেমিক ভ্রমণপিপাসুরা। প্রতিদিন হাজারও দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত বাংলার আপেল নামে খ্যাত কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগান। গ্রামীণ জনপদে বিনোদন প্রেমীদের জন্য মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পেয়ারাবাগান দিন দিন পরিণত হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রে। সরকারিভাবে প্রচেষ্টা থাকলেও জমির অভাবে এখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। কিন্তু গত বছর এলাকার উচ্চশিক্ষিত পাঁচজন তরুণ তিন একর পেয়ারাবাগান লিজ নিয়ে আদমকাঠিতে প্রথম পেয়ারা পার্ক নামে একটি মিনি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলেন। ইত্তেফাক

পার্কের পরিচালক চিন্ময় জানান, সহনীয় পর্যায়ে খরচের মাধ্যমে পর্যটকদের বিনোদন সহায়তার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করাই তাদের লক্ষ্য। এছাড়াও জিন্তাকাঠি ও আটঘর এলাকায়ও আরো দুটি পর্যটন পার্ক গড়ে উঠেছে। পর্যটকদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পেয়ারা বাগান এলাকায় গড়ে উঠতে পারে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র এবং সরকারও আয় করতে পারে বিপুল রাজস্ব।

পেয়ারার মৌসুমে ঢাকাসহ দূর-দূরান্তের নানা বয়সি ভ্রমণপিপাসু অসংখ্য দর্শনার্থী, বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিনোদন প্রেমিরা আসেন পেয়ারা বাগান দর্শনে। বিশেষ করে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বহু পর্যটকের সমাগম ঘটে এ এলাকায়। দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি এ পেয়ারা বাগানে বিদেশি পর্যটকরাও আসছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার অতিসম্প্রতি কুড়িয়ানার পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলিতে ভাসমান পেয়ারা হাট এবং গত বছর তত্কালীন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আটঘর কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান পরিদর্শন করে গেছেন।

আটঘর কুড়িয়ানার ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার বলেন, শুধু পেয়ারার মৌসুমই উত্সবমুখর হয়ে ওঠে না, সারা বছরই কমবেশি দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে এ এলাকায়। এখানে পর্যটন কেন্দ্র ও উন্নতমানের হোটেল-রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হলে উন্মোচিত হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার, পালটে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তত্কালীন চেয়ারম্যান মো. আকতারুজ্জামান খান কবির আটঘর কুড়িয়ানাতে সফরকালে আদমকাঠিতে একটি বিশ্রামাগার ও হোটেল নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন করেন। এ লক্ষ্যে খসড়া প্লান তৈরিও করা হয়েছিল। কিন্তু চাহিদামতো জমি না পাওয়ায় বিশ্রামাগার ও হোটেল নির্মাণ করা আজও সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান, যেখানে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখানে চাহিদামতো জমি নেই বিধায় অন্যত্র জমি খোঁজা হচ্ছে। খুব শিগগির জমির ব্যবস্থা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এএস/এসবি

সুত্রঃ আমাদের সময় ডট কম

About Nit Nazmul 79 Articles
ডোমেইন হোষ্টিং ওয়েব ডিজাইন ফেইসবুক বুষ্ট ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন মোবাইলঃ 01611-555 455